বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালের ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) ঢাকার মহাখালীর কড়াইলে এক ঐতিহাসিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা খাতের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবকে স্বীকার করেও তিনি নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ভাষণে একটি উচ্চাভিলাষী কিন্তু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন:
আগামী ৫ বছর: বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
নারী-কেন্দ্রিক ক্ষমতায়ন: প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানকে এই কার্ডের সুবিধাভোগী হিসেবে নির্বাচন করা হবে, যা সরাসরি নারীর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
ডিজিটাল ক্যাশ ট্রান্সফার: উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ল্যাপটপে বাটন প্রেস করার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি সরকারের প্রযুক্তিগত সক্ষমতারই প্রমাণ।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার প্রভাব বাংলাদেশকেও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেছেন যে:
সময়ের প্রয়োজন: বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো কিছুটা সময় বেশি লাগতে পারে।
ধৈর্যের আহ্বান: তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করার এবং সুন্দর দেশ গড়ার কাজে সম্মিলিতভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নারী শিক্ষায় অসামান্য অবদানের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বিগত দিনে শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছিল, আর এখনকার লক্ষ্য হলো সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা।
কড়াইলের টিঅ্যান্ডটি মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিনী ডা. জোবাইদা রহমানের উপস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। পাশাপাশি, সকল ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পাঠ ও দলের দলীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে এক জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার—এক, সরকার বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং দুই, তারা কোনো অবস্থাতেই জনকল্যাণমূলক কাজ থেকে পিছিয়ে আসবে না। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে এটি দরিদ্র বিমোচনে বিপ্লব ঘটাবে। সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে চার কোটি পরিবারের তথ্য ডেটাবেস নিখুঁতভাবে তৈরি করা এবং কোনো ধরনের মধ্যস্বত্বভোগী যেন এই প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করতে না পারে তা নিশ্চিত করা। তারেক রহমানের এই দূরদর্শী পদক্ষেপ আগামী দিনের বাংলাদেশে অর্থনৈতিক সমতা প্রতিষ্ঠায় মাইলফলক হয়ে থাকবে।
তথ্যসূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (১০ মার্চ ২০২৬), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পালস বাংলাদেশ সোশ্যাল পলিসি অ্যানালিটিক্স।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সরকারি উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |